অর্শ থেকে স্থায়ী স্বস্তি পেতে জীবনধারায় আনুন এই ৫ বদল

অর্শ বা হেমোরয়েড একটি সাধারণ কিন্তু অত্যন্ত কষ্টদায়ক সমস্যা। পায়ুপথের চারপাশে রক্তনালীগুলো ফুলে গিয়ে যন্ত্রণা, রক্তপাত এবং অস্বস্তি সৃষ্টি করে। লিঙ্গ, বয়স নির্বিশেষে যে কারও হতে পারে এই রোগ। তবে পরিবারে কারও অর্শ থাকলে বংশগত কারণে ঝুঁকি বাড়ে। দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য, অতিরিক্ত ওজন, গর্ভাবস্থা বা ভারী জিনিস তোলার অভ্যাস থাকলেও অর্শের সম্ভাবনা বেশি।

অর্শের সমস্যা কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না?

১) রোজের ডায়েটে বিভিন্ন রকমের শাক-সব্জি রাখতে হবে। মরসুমি সব্জি খেতে হবে নিয়ম করে। কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে ডায়েটে ঢ্যাঁড়শ রাখা যেতে পারে। পাশাপাশি, ফাইবার বেশি আছে এমন খাবার বেশি করে খেতে হবে নিয়মিত। দুপুরের ভোজে পালং শাক, নটে শাক বা যে কোনও শাক অবশ্যই রাখুন। পটল, শসার মতো সব্জি খোসাসমেত খাওয়ার চেষ্টা করুন।

 

অর্শের সমস্যা কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না? জীবনধারায় ৫ বদল আনলেই মিলবে স্বস্তি

 

শুরুর দিকে সতর্ক না হলে রোগ বেড়ে গিয়ে অস্ত্রোপচার ছাড়া উপায় থাকে না। কিন্তু জীবনযাপনে কিছু সাধারণ বদল আনলে অর্শ প্রতিরোধ করা সম্ভব এবং বিদ্যমান সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে। চিকিৎসকদের মতে, নিচের ৫টি অভ্যাসে পরিবর্তন আনলে দ্রুত স্বস্তি মেলে:

 

google news
আমাদের গুগল নিউজে ফলো করুন

 

১. খাদ্যাভ্যাসে ফাইবার বাড়ান

অর্শের প্রধান কারণ কোষ্ঠকাঠিন্য। ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার মল নরম করে এবং সহজে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে।

  • প্রতিদিনের খাবারে বিভিন্ন শাক-সবজি রাখুন। মরসুমি সবজি যেমন পটল, ঢ্যাঁড়শ, শসা (খোসাসহ), লাউ ইত্যাদি নিয়মিত খান।
  • পালং শাক, নটে শাক, লাল শাকের মতো সবুজ শাকসবজি দুপুরের খাবারে অবশ্যই যোগ করুন।
  • ফলের মধ্যে পেঁপে, আপেল, কলা, আমড়া ফাইবারের ভালো উৎস।
  • ইসবগুলের ভুসি রাতে জলে ভিজিয়ে খেলে সকালে পেট ভালোভাবে পরিষ্কার হয়।

 

অর্শের সমস্যা কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না? জীবনধারায় ৫ বদল আনলেই মিলবে স্বস্তি

 

২. শারীরিক সক্রিয়তা বাড়ান

দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে পায়ুপথে চাপ পড়ে, যা অর্শ বাড়ায়।

  • অফিসে কাজের ফাঁকে ৩০-৪০ মিনিট অন্তর উঠে হাঁটুন।
  • খাবারের পর হালকা হাঁটাহাঁটি করুন।
  • লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহার করুন।
  • দিনে অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা, যোগা বা হালকা ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ুন। পেলভিক ফ্লোর এক্সারসাইজ (কেগেল) বিশেষ উপকারী।

৩. পর্যাপ্ত জল পান করুন

ডিহাইড্রেশন মল শক্ত করে, যা অর্শের যন্ত্রণা বাড়ায়।

  • দিনে ৩-৪ লিটার জল খান।
  • গরমকালে বা ব্যায়ামের পর আরও বেশি জল পান করুন।
  • নারিকেল জল, লেবুর শরবতের মতো হাইড্রেটিং পানীয় যোগ করতে পারেন।

৪. মাংস কমিয়ে ফাইবার বাড়ান

লাল মাংস এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারে ফাইবার কম থাকে, যা কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়ায়।

  • মাংসের পরিবর্তে মাছ, ডিম, ডাল বেশি খান।
  • ভাজাভুজি, মশলাদার খাবার এড়িয়ে চলুন।
  • ফাইবার সাপ্লিমেন্ট (চিকিৎসকের পরামর্শে) নিতে পারেন।

৫. নিয়মিত মলত্যাগের অভ্যাস গড়ুন

  • প্রতিদিন একই সময়ে টয়লেটে যাওয়ার চেষ্টা করুন।
  • মলত্যাগের সময় জোর করে চাপ দেবেন না।
  • টয়লেটে দীর্ঘক্ষণ বসে মোবাইল ব্যবহার করবেন না।
  • ইসবগুল, ত্রিফলা চূর্ণ বা চিকিৎসকের পরামর্শে ল্যাক্সেটিভ ব্যবহার করতে পারেন।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

  • মলের সঙ্গে রক্তপাত হলে
  • তীব্র যন্ত্রণা বা ফোলা ভাব থাকলে
  • ওজন কমে যাওয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য দীর্ঘদিন থাকলে
  • ৫০ বছরের পর নতুন করে অর্শের লক্ষণ দেখা দিলে (কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাদ দেওয়ার জন্য)

অর্শ প্রতিরোধে জীবনযাপনের এই ছোট ছোট বদলই সবচেয়ে কার্যকর। শুরুতে সতর্ক থাকলে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়ে না। তবে সমস্যা বাড়লে অবহেলা না করে গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট বা প্রোকটোলজিস্টের পরামর্শ নিন।

 

Leave a Comment