Thyrin থাইরিন ওষুধের যাবতীয় তথ্য

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় Thyrin থাইরিন ওষুধের যাবতীয় তথ্য। বাংলাদেশে পাওয়া যায় এরকম বিভিন্ন ওষুধের তথ্য আপনাদের কাছে পৌছে দিতে আমাদের এই আয়োজন।

Thyrin থাইরিন ওষুধের যাবতীয় তথ্য

উপাদান:

থাইরিন ট্যাবলেট: প্রতিটি ট্যাবলেটে আছে লিভোথাইরক্সিন সোডিয়াম বিপি ৫০ মাইক্রোগ্রাম ।

থাইরিন ” ২৫ ট্যাবলেট। প্রতিটি ট্যাবলেটে আছে লিভোথাইরক্সিন সোডিয়াম বিপি ২৫ মাইক্রোগ্রাম।

 

Thyrin থাইরিন ওষুধের যাবতীয় তথ্য

 

নির্দেশনা:

হাইপোথাইরয়েডিজম : সাবএ্যাকিউট খ ইিরয়েডাইটিসে অস্থায়ী হাইপোথাইরয়েডিজম ব্যতীত অন্যান্য কনজেনিটাল অথবা এ্যাকোয়ার্ড হাইপোথ াইরয়েডিজমে রিপ্লেসমেন্ট বা সাপ্লিমেন্ট থেরাপী হিসেবে ব্যবহৃত হয়। নির্দিষ্ট নির্দেশনাসমূহ: প্রাইমারী (থাইরয়েডজনিত), সেকেন্ডারী (পিটুইটারী জনিত) এবং টারসিয়ারী (হাইপোথ্যালামিক) জনিত হাইপোথাইরয়েডিজম এবং সাব ক্লিনিক্যাল হাইপোথাইরয়েডিজম।

পিটুইটারী টিএসএইচ সাপ্রেশন: বিভিন্ন ধরণের ইউথাইরয়েড গলগন্ডের চিকিৎসা এবং প্রতিষেধক হিসেবে, সাবএ্যাকিউট বা ক্রণিক লিম্ফোসাইটিক থাইরয়েডাইটিস (হাসিমোটোস থাইরয়েডাইটিস), মাল্টিনোডিউলার গলগন্ড এবং থাইরয়েড ক্যান্সারে সার্জারী ও রেডিও আয়োডিন থেরাপির সাথে ব্যবহৃত হয়।

মাত্রা ও ব্যবহারবিধি:

থাইরিন ” ট্যাবলেট প্রতিদিন TM একই সময়ে খালি পেটে খাওয়া শ্রেয়। খাবারের পর পরই খেলে লিভোথাইরক্সিনের শোষণ কম হতে পারে। রোগীর অবস্থা এবং নিয়মিত ল্যাবরেটরী পরীক্ষার TM পরিমাপ অনুযায়ী খাইরিন এর মাত্রা নির্দেশিত হয়।

প্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে:

প্রারম্ভিক মাত্রা: ২৫-৫০ মাইক্রোগ্রাম প্রতিদিন। ৬-৮ সপ্তাহের ব্যবধানে ধাপে ধাপে প্রয়োজন অনুযায়ী মাত্রা বাড়াতে হবে। প্রাইমারী হাইপোথাইরয়েডিজমের রোগী ইউথাইরয়েড অবস্থায় আসা পর্যন্ত এবং রকে টিএসএইচ এর পরিমান স্বাভাবিক হওয়া পর্যন্ত লিভোথাইরক্সিন সোডিয়ামের মাত্রা ১২.৫-২৫ মাইক্রোগ্রাম পর্যন্ত বাড়ানো যায়।

মারাত্মক হাইপোথাইরয়েডিজমের রোগীর ক্ষেত্রে প্রারম্ভিক মাত্রা ১২.৫-২৫ মাইক্রোগ্রাম প্রতিদিন। রক্তে টিএসএইচ এর পরিমান স্বাভাবিক হওয়া পর্যন্ত প্রতি ২-৪ সপ্তাহ পর পর দৈনিক ২৫ মাইক্রোগ্রাম হারে মাত্রা বাড়াতে হবে। সেকেন্ডারী (পিটুইটারী) অথবা টারসিয়ারী (হাইপোথ্যালামিক)

হাইপোথাইরয়েডিজমের রোগীর ক্ষেত্রে: রোগী ইউথাইরয়েড অবস্থায় আসা পর্যন্ত এবং রক্তে ফ্রি T4 এর পরিমান পূর্বের স্বাভাবিক সীমায় আসা পর্যন্ত লিভোথাইরক্সিন সোডিয়ামের মাত্রা সমন্বয় করতে হবে । ৫০ বছরের অধিক বয়স্ক রোগী অথবা হৃদরোগীর ক্ষেত্রে: প্রারম্ভিক মাত্রা দৈনিক ২৫ থেকে ৫০ মাইক্রোগ্রাম, যা ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ পর পর প্রয়োজন অনুসারে বাড়াতে হয়।

শিশুদের ক্ষেত্রে নবজাতক; অনুমোদিত প্রারম্ভিক মাত্রা দৈনিক ১০- ১৫ মাইক্রোগ্রাম প্রতি কেজি হিসেবে। কার্ডিয়াক ফেইলরের ঝুঁকি আছে এমন শিশুর ক্ষেত্রে কম মাত্রায় ওষুধ শুরু করতে হবে। চিকিৎসা এবং ল্যাবরেটরী পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী পরবর্তীতে ৪-৬ সপ্তাহের মধ্যে মাত্রা বাড়াতে হবে। রক্তে T4 এর ঘনত্ব খুব কম

(<৫ মাইক্রোগ্রাম/ডেসিলিটার) বা নিরূপনের অযোগ্য হলে লিভোথাইরক্সিনের প্রারম্ভিক মাত্রা হবে দৈনিক ৫০ মাইক্রোগ্রাম। সাধারণভাবে শিশুদের ক্ষেত্রে: দীর্ঘস্থায়ী বা মারাত্মক হাইপোথাইরয়েডিজমের শিশুদের জন্য প্রারম্ভিক মাত্রা দৈনিক ২৫ মাইক্রোগ্রাম। প্রত্যাশিত ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত প্রতি ২-৪ সপ্তাহ পরপর ২৫ মাইক্রোগ্রাম হারে বাড়াতে হবে।

বড় শিশুদের হাইপারএ্যাকটিভিটির উপসর্গ কমানোর জন্য স্বাভাবিক মাত্রার এক চতুর্থাংশ হিসেবে শুরু করতে হবে। পরবর্তীতে স্বাভাবিক পূর্ণ মাত্রায় আসা পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে স্বাভাবিক মাত্রার এক চতুর্থাংশ হিসেবে মাত্রা বাড়াতে হবে।

প্রতি কেজি ওজন হিসেবে দৈনিক মাত্রা ০-৩ মাস : দৈনিক ১০-১৫ মাইক্রোগ্রাম/কেজি ৩-৬ মাস : দৈনিক ৮-১০ মাইক্রোগ্রাম/কেজি ৬-১২ মাস দৈনিক ৬-৮ মাইক্রোগ্রাম / কেজি ১-৫ বছর : দৈনিক ৫-৬ মাইক্রোগ্রাম/কেজি ৬-১২ বছর : দৈনিক ৪-৫ মাইক্রোগ্রাম/কেজি >১২ বছর কিন্তু অসম্পূর্ন বৃদ্ধি ও বয়ঃসন্ধি: দৈনিক ২-৩ মাইক্রোগ্রাম/কেজি পরিপূর্ন

বৃদ্ধি ও বয়সন্ধি: দৈনিক ১.৭ মাইক্রোগ্রাম/কেজি রোগীর শারীরিক অবস্থা ও ল্যাবরেটরী পরীক্ষার পরিমাপ অনুযায়ী মাত্রা সমন্বয় করতে হবে । প্রতি নির্দেশনা: সাবক্লিনিক্যাল বা ওভার্ট থ াইরোটক্সিকোসিসের চিকিৎসা করা না হলে এবং মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন।

গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকালে ব্যবহার গর্ভাবস্থায় ব্যবহার:

ক্যাটাগরি এ। গর্ভাবস্থায় শরীরে লিভোথাইরক্সিনের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। স্তন্যদানকালীন ব্যবহার: মাতৃদুগ্ধে খুব সামান্য পরিমান থাইরয়েড হরমোন নিঃসরিত হয় যা শিশুর ওপর তেমন কোন বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে না। তথাপি স্তন্যদানকারী মায়ের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন প্রয়োজন ।

অন্য ওষুধের সাথে বিক্রিয়া:

ট্রাই/টেট্রাসাইক্লিক এ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট এবং লিভোথাইরক্সিনের একত্রে ব্যবহারে উভয় ওষুধের কার্যকারিতা এবং বিষক্রিয়া বেড়ে যেতে ক্যাটেকোলামাইনের প্রতি রিসেপ্টর সংবেদনশীলতা পারে। বৃদ্ধিই এর সম্ভাব্য কারন। এর ফলে কার্ডিয়াক

এ্যারিদমিয়া এবং সিএনএস স্টিমুলেশনের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। লিভোথাইরক্সিন পাচ্ছে এমন রোগীর অ্যান্টিডায়াবেটিক বা ইনসুলিনের চাহিদাও বেশী থাকে। এজন্য বিশেষ সতর্কতার প্রয়োজন। হাইপারথাইরয়েডিজম অথবা হাইপোথাইরয়েড রোগী ইউথাইরয়েডের অবস্থায় আসার ফলে রক্তে ডিজিটালিস গ্লাইকোসাইডের প্রভাব ক্ষুন্ন হয়।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া:

অতিরিক্ত মাত্রায় ব্যবহারজনিত হাইপারথ ইিরয়েডিজমই মূলতঃ লিভোথাইরক্সিনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া। সেক্ষেত্রে নিম্নলিখিত উপসর্গসমূহ দেখা দেয় । সাধারণ উপসর্গ। ক্লান্তি, ক্ষুধা বৃদ্ধি, ওজনন্ত্রাস, তাপ অসহনীয়তা, জ্বর, অতিরিক্ত ঘাম। স্নায়ু সম্বন্ধীয়: মাথা ব্যথা, হাইপার এ্যাকটিভিটি, স্নায়ু দৌর্বল্য, দুশ্চিন্তা, অসহনীয়তা, অতিরিক্ত আবেগ, নিদ্ৰাহীনতা।

পেশী ও কঙ্কালতন্ত্র: কাঁপুনী, পেশীর দুর্বলতা। রক্ত সংবহনতন্ত্র। বুক ধরফর করা, ট্যাকিকার্ডিয়া, এ্যারিদমিয়া, নাড়ির স্পন্দন এবং রক্তচাপ বৃদ্ধি । শ্বসনতন্ত্র। শ্বাসকষ্ট। পরিপাকতন্ত্র: পাতলা পায়খানা, বমি, পেটব্যথা । ত্বক: চুলপড়া, ত্বক লালচে হওয়া।

 

Thyrin থাইরিন ওষুধের যাবতীয় তথ্য

 

মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার:

মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে হাইপারথাইরয়েডিজমের লক্ষণসমূহ দেখা দেয়। যেমন- দ্বিধাগ্রস্থতা, ডিসওরিয়েন্টেশন। এছাড়া সেরেব্রাল এমবোলিজম, শক, কোমা, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের ক্ষেত্রেই শুধুমাত্র এজাতীয় উপসর্গ দেখা দেবার সম্ভাবনা থাকে।

চিকিৎসা: মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের লক্ষণসমূহ দূর হওয়া পর্যন্ত তাৎক্ষনিকভাবে লিভোথাইরক্সিনের ব্যবহার বন্ধ রাখতে হবে অথবা মাত্রা কমিয়ে ব্যবহার করতে হবে।

সরবরাহ:

থাইরিন ট্যাবলেট । প্রতি বাক্সে আছে ৯০ টি থাইরিন’ ২৫ ট্যাবলেট । প্রতি বাক্সে আছে ৬০ টি ট্যাবলেট ।

Leave a Comment